বর্ষবরণে পার্কস্ট্রিটের ঐতিহ্যমন্ডিত রেঁস্তোরাগুলিতে ব্যস্ততা,জোর জনসচেতনতায়

সঞ্চারী সাহা,এনএফবিঃ

বর্ষবরণ আর পার্কস্ট্রিট যেন একটা পরম্পরাগত ঐতিহ্য ৷ আবহমান কাল থেকেই বড়দিনের সময় পার্কস্ট্রিট সেজে ওঠে নিজের ছন্দে ৷ ক্রিসমাস ও নতুন বছরকে বরণ করতে পার্কস্ট্রিটে উপস্থিত থাকাটা সত্যিই এখন একটা স্টেটাস সিম্বল হয়ে গেছে ৷ কলকাতায় বিভিন্ন মল কালচার বা পাঁচতারা হোটেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পার্কসট্রিট কিন্তু আজও নিজের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে নিজ দক্ষতায় ৷ বলা বাহুল্য এই ঐতিহ্য বহন করতে সবথেকে বেশী ভূমিকা পালন করেছে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী বা তার পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন রেঁস্তোরাগুলো ৷ কিছু কিছু স্পেশাল খাবার বা আভ্যন্তরীণ মনোরঞ্জনের নানা মাধ্যমই হল এই ঐতিহ্যবাহী রেঁস্তোরা গুলোর বিশেষত্ব ৷

সাম্প্রতিক করোনা ভ্রুকূটিকে উপেক্ষা করে বড়দিনে পার্কস্ট্রিটে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হতে নেট দুনিয়ায় ওঠে সমালোচনার ঝড় ৷ সাম্প্রতিক ওমিক্রন-উদ্বেগের মাঝেই আজ তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ৷ এক সপ্তাহের মধ্যেই তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ কলকাতায় গোষ্ঠী সংক্রমণের ও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ৷ আজ স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত বুলেটিনে এ রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ ২ হাজার পার করে গেছে ৷ এরমধ্যে কলকাতাতে সংক্রমিত ১ হাজার ৯০ জন ৷ যদিও আমুদে বাঙালির উৎসব উদযাপনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পেট পুজো ৷ তাই এইরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে পার্কস্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী রেঁস্তোরাগুলো কতটা প্রস্তুত তারই খোঁজ নিতে আজ নিউজফ্রন্ট বাংলা হাজির হয়ে ছিল পার্কস্ট্রিটের বিখ্যাত রেঁস্তোরা গুলোতে ৷ ঐতিহ্যবাহী রেঁস্তোরার পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচার ( INTACH) দ্বারা প্রদত্ত হেরিটেজ তকমা প্রাপ্ত তিনটি রেঁস্তোরার ম্যানেজারদের সাথেও আজ কথা বলার চেষ্টা করা হয় ৷

ম্যানেজার রাজেশ, কোয়ালিটি রেঁস্তোরা

প্রথমেই কথা বলাহয় হেরিটেজ তকমা প্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী রেঁস্তোরা কোয়ালিটির ম্যানেজার রাজেশের সাথে ৷ তিনি জানান, কোভিড প্রটোকল মেনে ৫০ শতাংশ গ্রাহককেই ৩১ শে ডিসেম্বর আর ১ লা জানুয়ারীতে প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হবে তাদের রেঁস্তোরায় ৷ সংক্রমণ এড়াতে একটা টেবিল ফাঁকা রেখে অন্য টেবিলে বসার আয়োজন করা হয়েছে ৷ আর এক ঐতিহ্যবাহী রেঁস্তোরা পিটার ক্যাটের ম্যানেজার বলেন, সমস্ত কোভিড প্রোটোকল মেনেই তারা রেঁস্তারার ভিড় সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে ৷ রেঁস্তোরার প্রত্যেক স্টাফ মাস্ক, গ্লাভস্, ফেস শিল্ড ব্যবহার করছেন ৷ তাছাড়াও প্রত্যেকটি টেবিলের মাঝে ফাঁক রেখে মাঝখানে কাঁচের পার্টিশন করে দেওয়া হয়েছে ৷ আগত গ্রাহকদের থার্মাল চেকিং করে তাপমাত্রা মেপে হাত স্যানিটাইজ করে তবেই রেঁস্তোরার ভিতরে প্রবেশের অনুমতি মিলবে ৷ তবে তিনি এটাও জানান, তারা বিধি মানার জন্য গ্রাহকদের কাছে অনুরোধ করতে পারে তবে যদি অসচেতন গ্রাহকরা ভিড় জমায় সেক্ষেত্রে তাদের ও কিছু করার নেই ৷ যতটা সম্ভব পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই তারা সাবধানতা অবলম্বন করার চেষ্টা করছে ৷ আরও দুই হেরিটেজ তকমাপ্রাপ্ত রেঁস্তোরা ট্রিঙ্কাস এবং মোকাম্বোর ম্যানেজারদের কাছে বর্ষবরণের ভিড় সামলানোর প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি শুনে তাঁরা তাদের ব্যবস্থার কথা এড়িয়ে যান ৷

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিচার করে বলা যায় যে, নতুন বছরকে বরণ করতে পার্কস্ট্রিট সেজে উঠলেও মহামারি সচেতনতাকে উপেক্ষা করে আবেগে ভেসে গেলে তা আত্মঘাতী রূপ নেবে ৷ এক্ষেত্রে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.