আমার দলই ভারত সেরা শক্তিশালীঃ জুয়ান

স্পোর্টস ডেস্ক, এনএফবিঃ

কলকাতা ডার্বি জিতে আইএসএলের পয়েন্ট তালিকায় প্রথম ছয়ে উঠে এসেছে এটিকে মোহনবাগান। তবে রবিবার তাঁদের কঠিন প্রতিপক্ষ মুম্বাই এফসি যাদের বিরুদ্ধে বাগানের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স খুবই খারাপ। আইএসএলে কখনও জয়ের মুখ দেখেনি এটিকে মোহনবাগান। সেই ইতিহাস পাল্টানো এ বারও সহজ হবে না। তবে ইতিহাস বা অতীত নিয়ে ভাবছেন না এটিকে মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ জুয়ান ফেরান্দো।

মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে তাঁদের মাঠে নামার আগে জুয়ান জানাচ্ছেন, “ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়ে আলাদা তো হবেই এই ম্যাচে। কারণ, ওরা অন্য দল, ওদের স্টাইল আলাদা। ওদের অনেক ভাল ভাল খেলোয়াড় রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ। গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলে এসেছে। আমাদের কাছে এটা কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। সমর্থকদের সামনে খেলতে পারছি না। পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে। আশা করি, সেটা সফলও হবে।মুম্বইয়ের অনেক কিছুই ভাল। ওদের যেমন শক্তিশালী রক্ষণ আছে, আপুইয়া, ফলদের মতো খেলোয়াড় রয়েছে সেখানে। তেমন আক্রমণও ভাল। ওরা খুব ভাল জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে। ওদের আক্রমণে বিপিন, ছাঙতের মতো দ্রুতগতির ফুটবলার আছে। খুব ভাল (তৎক্ষনাৎ) সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওরা। নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার প্রবণতা দেখা যায় ওদের মধ্যে। উইথ বল, যে কোনও পরিস্থিতিতে ওরা যথেষ্ট ভাল। এ রকম একটা দলের বিরুদ্ধে রক্ষণের কাজ অনেক বেড়ে যায়।”

“ইস্টবেঙ্গল নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। কারণ, ওটা অতীত। আমরা এখন পরের ম্যাচে মনোনিবেশ করেছি। আমি ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবি না। আগে কী হয়েছে না হয়েছে, সে সব নিয়ে ভেবে কোনও লাভ নেই। কারণ, এগুলোর ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তা ছাড়া পরিসংখ্যান বদলাতে থাকে। তাই আমরা টানা সাত-আটবার জিতলাম কি না, তাতে কিছু যায় আসে না। গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে আমরা দু’বছর পরে আবার বিভিন্ন শহরে গিয়ে সেখানকার দর্শকের সামনে খেলছি, এর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভাল খেলে যেতে হবে আমাদের। আমার কাছে আমার দলই ভারতের সেরা। আমরা যদি দল হিসেবে খেলতে পারি, তা হলে আমরা একশো শতাংশ সাফল্য পাব। অবশ্যই ওদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কারণ, ওদের ভাল ভাল খেলোয়াড় আছে। কিন্তু এটিকে মোহনবাগান যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তা হলে ম্যাচটা আমরাই জিতব।”

দলের তরুণ তারকা ফুটবলার লিস্টন কোলাসো একদমই ভালো ফর্ম এর মধ্যে নেই। জুয়ান তাকে নিয়ে জানাচ্ছেন, গত বার যেমন মনবীর ওর সেরা ছন্দে ছিল না, এখন সেরা ফর্মে আছে। সারা বিশ্বে এটা হয়। দীর্ঘ মরশুমে অনেকেই টানা ছ-সাতটা ম্যাচ ভাল খেলতে পারে না, তার পরে ছন্দে ফিরে আসে। তার পরে দশটা ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায়। মনবীর, লিস্টনদের পজিশনে সবসময় ভাল পারফরম্যান্স বজায় রেখে যাওয়াটা কঠিন। এটা নির্ভর করে দলের পরিকল্পনার ওপর। দল যদি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা নিয়ে খেলে, তা হলে লিস্টনদের পক্ষে আক্রমণে ওঠা সোজা হয়। কিন্তু দল যদি সঙ্ঘবদ্ধভাবে আক্রমণে না উঠতে পারে, এই ব্যাপারে যদি দুর্বল হয়, তা হলে মনে হয়, স্ট্রাইকাররা ভাল খেলতে পারছে না। লিস্টনের ব্যাপারে আমি চিন্তিত নই। কারণ, আমি জানি প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই ভাল সময় আসে। যেমন মনবীরের এসেছে। আমার তো মনে হয়, কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ও-ই সেরা খেলোয়াড় ছিল। চেন্নাইনের বিরুদ্ধে এবং ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও ও যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে।

দিমিত্রিয়স পেট্রাটসের পারফরম্যান্সে নিয়ে বাগান কোচ জানাচ্ছেন, “ও দলকে অনেক সাহায্য করছে। আক্রমণের সময় ওকে কখন, কোথায় থাকতে হবে তা খুব ভাল বোঝে ও। এমনিকেই অনেক দেরিতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও অল্প সময়ে ও যেভাবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে, তা অসাধারণ। ও সব সময় ফুটবল নিয়ে ভাবে। ওর মতো খেলোয়াড় দলে থাকায় আমার পক্ষে কাজটা করতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। ওর আশে পাশে যারা খেলছে, তারাও ভাল পারফর্ম করছে। কারণ, দিমিত্রি জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, জায়গা খুঁজে নিয়ে তাকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণ তৈরি করতে পারে। অসাধারণ খেলোয়াড়। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচে ও ক্লান্ত ছিল। তা সত্ত্বেও ৯০ মিনিট ধরে এক ভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিল। ও দলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।”

নিউজ ফ্রন্ট বাংলার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন টি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।