আজ কঠিন ম্যাচে এসসি ইস্টবেঙ্গল

অঞ্জন চ্যাটার্জী, এনএফবিঃ

আজ কঠিন ম্যাচে নামছে এস সি ইস্টবেঙ্গল ও হায়দরাবাদ এফসি তার আগে দেখে নেওয়া যাক দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স

এসসি ইস্টবেঙ্গলঃ

জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে ১-১ ড্র দিয়ে এবারের লিগ শুরু করে এসসি ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা ডার্বিতে এসসি ইস্টবেঙ্গল আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করলেও এটিকে মোহনবাগান জেতে ৩-০-য়। ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে সবার আগে লাল হলুদের ডাচ খেলোয়াড় ড্যারেন সিডোলই গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। তার পরেও হাফ ডজন গোল খায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৬-৪-এ ম্যাচ জেতে ওডিশা। চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে এসসি ইস্টবেঙ্গল লড়াই করলেও গোলশূন্য ড্র করে লিগের দ্বিতীয় পয়েন্ট অর্জন করে। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে সারা ম্যাচে সাত-সাতটি গোল হলেও কোনও পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি এসসি ইস্টবেঙ্গল। ৪-৩-এ জেতে এফসি গোয়া। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করলেও ১-১ ড্র করে স্প্যানিশ কোচ হোসে মানুয়েল দিয়াজের দল। গত বৃহস্পতিবার নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-ও ২-০-য় হারায় তাদের। এই নিয়ে চতুর্থবার হার মানে তারা।

হায়দরাবাদ এফসিঃ

ছ’টির মধ্যে তিনটি ম্যাচে জিতে সেরা চারে রয়েছে নিজামের শহরের দল। চেন্নাইন এফসি-র কাছে ০-১ হার দিয়ে শুরু করলেও তার পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকায়নি তারা। দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা ৩-১-এ হারায় লিগ টেবলে শীর্ষস্থানীয় মুম্বই সিটি এফসি-কে। তবে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি তারা। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে মানলো মার্কেজের দল। তবে পরের দুই ম্যাচেই হারায় যথাক্রমে বেঙ্গালুরু এফসি ও নর্থইস্ট এফসি-কে। নর্থইস্টের বিরুদ্ধে ৫-১-এর বড় ব্যবধানে জেতে হায়দরাবাদ। কিন্তু গত শনিবার এফসি গোয়ার সঙ্গে তারা পয়েন্ট ভাগ করে নিতে বাধ্য হয় ১-১ ড্র করে।এবারের লিগে এ পর্যন্ত শুধু তারা এবং কেরালা ব্লাস্টার্স টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। এ বারের অন্যতম ব্যালান্সড দল হায়দরাবাদ। মার্কেজের দলে আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে যথেষ্ট ভারসাম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে এগারো গোল দিয়ে পাঁচটি গোল হজম করেছে হায়দরাবাদ। চেন্নাইন এফসি-র পর তাদের ডিফেন্সিভ রেকর্ড সবচেয়ে ভাল।

দলগত অবস্থান-

এসসি ইস্টবেঙ্গলঃ

ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড আন্তোনিও পেরোসেভিচ প্রথম ম্যাচে আশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়ে লাল-হলুদ জনতার নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে তাঁর জোড়া গোলে সেই আশা ফের জেগে ওঠে। কিন্তু গত ম্যাচে রেফারির সঙ্গে অহেতুক তর্ক করে লাল কার্ড দেখেন তিনি। ফলে এই ম্যাচে তাঁকে পাবে না দল। ক্রোয়েশিয়া থেকে আসা অনূর্ধ্ব ২১ জাতীয় দলের স্টপার ফ্রানিও পর্চে প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত একটি গোল করে আশা জাগালেও পরের ম্যাচগুলোতে ব্যর্থ। গত ম্যাচে চাঁর চোট লাগায় বৃহস্পতিবার সম্ভবত খেলতে পারবেন না তিনি। ডাচ মিডফিল্ডার ড্যারেন সিডোলের চোট। তিনি নতুন বছরের আগে মাঠে নামতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কোচ নিজেই। ফলে আক্রমণ বিভাগে ভরসা বলতে নাইজেরিয়া থেকে আসা ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল চিমা চুকুউ। যিনি ওডিশার বিরুদ্ধে জোড়া গোল ছাড়া এখন পর্যন্ত সে রকম কিছুই করতে পারেননি। গত ম্যাচেও একাধিক গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ওডিশা, গোয়া ও নর্থইস্টের ফুটবলাররা যে ভাবে তাদের ডিফেন্ডারদের চাপে রেখেছিলেন, তার পরে দলের রক্ষণ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে ও কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচে কিছুটা হলেও উন্নত রক্ষণ বিভাগ দেখা যায় তাদের। ভাল খবর, চোট সারিয়ে গোলে ফিরে এসেছেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। মহম্মদ রফিকও গত ম্যাচে দলে ফিরেছেন। তিন বিদেশির অভাবে এমনিতেই এই ম্যাচে দল গড়তে সমস্যায় পড়তে পারেন কোচ দিয়াজ। তার ওপর চোট-আঘাতের তালিকায় জ্যাকিচন্দ সিং ও অঙ্কিত মুখার্জিও রয়েছেন। বলওয়ান্ত সিংও পুরো ম্যাচ খেলার অবস্থায় নেই। ফলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

হায়দরাবাদ এফসিঃ

পারথ গ্লোরি থেকে গত বছর হায়দরাবাদের ক্লাবে যোগ দেওয়া অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়েল চিয়ানিজ বেশ ফর্মে রয়েছেন। ২৮২ মিনিট মাঠে থেকে একটি গোল করেছেন ও দু’টি করিয়েছেন তিনি। তাঁর গোল কনভারশন রেট ৩৩%। এ বছরই মুম্বই সিটি এফসি থেকে এসে সই করে দলের প্রধান স্ট্রাইকারের জায়গাটা অবশ্য নিয়ে নিয়েছেন বার্থোলেমিউ ওগবেচে, যিনি একাই ইতিমধ্যে দলের ১১টির মধ্যে পাঁচটি গোলই করেছেন। লিগের সেরা স্কোরারদের তালিকায় তিনি এখন এক নম্বরে। ছয় ম্যাচে ৫০৬ মিনিট মাঠে থেকেছেন গত বছর ফাইনালের গোলদাতা। নর্থইস্টের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেন তিনি। ওগবেচের সঙ্গে চিয়ানিজ ও এটিকে মোহনবাগান থেকে এ বছর আসা স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এডু গার্সিয়াকেও মাঝে মাঝে খেলাচ্ছেন মার্কেজ। এডু এ পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু কোনও গোল পাননি। দলে অবশ্য স্কোরারের অভাব নেই। ওগবেচে পাঁচটি গোল করলেও বাকি ছ’টি গোল করেছেন ছ’জন। ফলে গোল নিয়ে তেমন চিন্তা নেই কোচের। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে এঁরা সবাই খেলার জন্য তৈরি।

নজরে থাকবেন-

ড্যানিয়েল চিমা চুকুউঃ

ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে ছ’গোল খেলেও চারটি গোল দেয় এসসি ইস্টবেঙ্গল। তার মধ্যে দু’টিই আসে ড্যানিয়েল চিমার পা থেকে। হতাশার মধ্যেও যা ক্ষীণ আশার আলো দেখিয়েছে সমর্থকদের। শেষ আধ ঘণ্টার জন্য মাঠে নামা চিমাকে সে দিন কিছুটা হলেও সপ্রতিভ মনে হয়েছে। ৯০ মিনিটের মাথায় গোলের সামনে ডান দিকে তৈরি হওয়া জটলা থেকে জোরালো শটে গোল করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। এর পরের মিনিটেই ফের গোল পান চিমা। এ বার পেনাল্টি থেকে। বল নিয়ে গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বক্সের মধ্যে তিনি বাধা পাওয়ায় রেফারি পেনাল্টি দেন ও সেই পেনাল্টি কিকেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি পেয়ে যান ‘ছোট চিমা’। যদিও এই নামের মাহাত্ম্য বজায় রাখতে পারেননি তিনি। আশির দশকের জনপ্রিয় নাইজেরীয় তারকা চিমা ওকোরির সঙ্গে আর কেউ তাঁর তুলনা করতে চাইছেন না এখন। গত ম্যাচেও গোলের সামনে থেক এমন সব সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি, যা অন্তত চিমা নামের সঙ্গে মানায় না। তবে বৃহস্পতিবার পেরোসেভিচের অনুপস্থিতিতে তাঁকেই দলের আক্রমণ বিভাগকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং আরও তৎপর থেকে গোলের দায়িত্ব নিতে হবে। নরওয়ের প্রথম ডিভিশন ক্লাব মোল্ড এফকে-র লিগ চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন চিমা। একবার নয়, তিনবার। ২০১৩-য় সেই ক্লাবের সর্বোচ্চ স্কোরারও হয়েছিলেন ১৩ গোল করে। ২০১১ থেকে ২০১৪-এই চার বছর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড সদ্যপ্রাক্তন কোচ ওলে গানার সোলস্কায়েরের তত্ত্বাবধানেও ছিলেন তিনি। পোল্যান্ডের ক্লাব লেগিয়া ওয়ারশর হয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলেছেন। তবে এই কৃতিত্বগুলির প্রতিফলন ভারতের মাঠে তাঁর পারফরম্যান্সে দেখা যাচ্ছে না। হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষা তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.