ভাতায় চলে না সংসার, সকাল সকাল টোটো চালান তৃণমূল কাউন্সিলর

এনএফবি, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ

কাউন্সিলর হয়ে যাওয়ায়, পুরসভার দৈনিক মজুরির কাজ হারিয়েছেন তিনি। সংসার চালাতে তাই টোটো চালান “স্বাভিমানী” কাউন্সিলার শ্যামল সাহা। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলরদের বাড়িতে মিলছে কোটি কোটি টাকা। এমনকি এর আগের বালুরঘাট পুরসভার তৃণমূল বোর্ডের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা তাদের নিজস্ব পেশা বদল করে রাজনীতি করেই অর্থবান হন বলেই শোনা যায়। কিন্তু, সেখানেই যেন ব্যতিক্রম ষাটের কোঠায় পা দেওয়া ‘তৃনমুলী’ শ্যামল বাবু। শহরের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি।

শ্যামল কুমার সাহা। নিজস্ব চিত্র

শাসকদলের নব্য ও আদিদের যে লড়াই দেখা যায়, শ্যামল বাবু কিন্তু আদিদের মধ্যেই পড়েন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকেই তিনি ওই ওয়ার্ডের সভাপতি পদে রয়েছেন। মাঝে হাজার প্রতিকূলতার মাঝে শহরের অনেক আদিরা, নব্যদের চাপে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও শ্যামল বাবু কিন্তু মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন। একেবারে দল অন্তপ্রাণ যাকে বলা হয়, শ্যামল বাবু তৃণমূলের জন্য ঠিক ততটাই ডেডিকেটেড।
তিনি ওই ওয়ার্ডেরই গৌড়ীয় মঠ এলাকায় নিজের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তৃণমূল বোর্ড আসার পরে শ্যামল বাবুকে পুরসভায় দৈনিক মজুরিতে কাজ দেওয়া হয়েছিল। তিনি পুরসভার হয়েই ওই ইলেকট্রিকের কাজ করতেন। দলের কাজ সামলে, পেশা টিকিয়ে রাখা চাপ হচ্ছিল বলে, বাইরে ব্যক্তিগতভাবে যে কাজগুলি তিনি করতেন, সেগুলিকে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিপর্যয় আসে ২০২২ সালে। আচমকা দল ও দলের কর্মীরা তাকে তৃণমূলের প্রার্থী হতে জোরাজুরি শুরু করে। তিনি প্রার্থী হন এবং ওই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

লখাই সাহা, স্থানীয় বাসিন্দা। নিজস্ব চিত্র

আর এই কাউন্সিলর হতেই তার পুরসভার দৈনিক মজুরিতে যে কাজ করতেন সেই কাজটি বাদ হয়ে যায়। কাউন্সিলরের সাম্মানিক ভাতা তিনি পেতে শুরু করলেও, ওই টাকায় সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে যাচ্ছিল বলে বিকল্প কি করা যায়, সেই ভাবনা তাকে গ্রাস করে ফেলেছিল। অবশেষে তিনি টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সমস্যা মেটানো, পুরসভার অফিসে গিয়ে কাজ আদায় করা-সহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজগুলি করতে গিয়ে টোটো কখন চালাবেন, সেই ভাবনাও আসে। শেষ পর্যন্ত তিনি সকালবেলাকেই বেছে নেন টোটো চালানোর জন্য। খুব ভোরে উঠে সকাল দশটা পর্যন্ত তিনি টোটো চালান শহর ও শহরতলীতে। যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে বাড়ির বাজার করে দিয়েই ফের নেমে পড়েন জনসেবার কাজে।

একদিকে যেমন মানুষকে পরিষেবা দেন, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে সকাল সকাল টোটো চালান শ্যামল বাবু। এনএফবির প্রতিনিধিকে শ্যামল বাবু জানান, ” কাউন্সিলর হিসেবে যা ভাতা পাই, তাতেই খুশি। তবে ভাতায় সংসার চলে না। তাই টোটোই ভরসা। কোনও দিন ২০০, আবার কোনও দিন ২৫০ টাকা রোজগার হয়। তাতেই সংসার চলে। এই কাজে লজ্জা নয়, বরং গর্ববোধ করি। চুরি চামারি করে নয়, খেটেই তো খাচ্ছি।”

নিউজ ফ্রন্ট বাংলার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন টি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *