বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে কলকাতায় কাফিল খান

সঞ্চারী সাহা, এনএফবিঃ

নিজের লেখা বই প্রকাশ উপলক্ষ্যে কলকাতা প্রেসক্লাবে রবিবার উপস্থিত ছিলেন ডাঃ কাফিল খান। মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টো নাগাদ এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় ৷

এদিন শুরুতেই ডাঃ কাফিল খানকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চ্যাটার্জী ৷ এরপর অন্যান্য অতিথি বৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চ্যাটার্জি ‘দ্যা গোরক্ষপুর হসপিটাল ট্র্যাজেডি’ বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ৷ অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের তরফ থেকে ডাঃ বিজ্ঞান বেরা , ডাঃ অশোক সামন্ত এবং প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ তরুণ মন্ডল, সিপিডিআর হিউম্যান রাইটসের তরফ থেকে রেশমা সিং প্রমুখ ৷ যদিও ঊর্ধমুখী করোনা গ্রাফ এবং নতুন স্ট্রেন ওমিক্রনের সাবধানতার জন্য চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন, অভিনেতা নাট্যকার কৌশিক সেন, গায়ক প্রতুল মুখোপাধ্যায় , গায়ক রূপম ইসলাম প্রেস ক্লাবে উপস্থিত না থাকতে পারলেও ডাঃ কাফিল খানকে তাঁর এই নতুন বইয়ের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে ৷

অভ্যর্থনা ৷ নিজস্ব চিত্র

এদিন দুপুরে প্রেস ক্লাবে উপস্থিত থেকে ডাঃ কাফিল খান তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতার টুকরো কাহিনী উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন ৷ তিনি নিজেই তাঁর লেখা বই থেকে পড়ে শোনান, ‘তু ডঃ কাফিল হ্যায়?
তুনে সিলিন্ডার কা অ্যারেঞ্জমেন্ট কিয়া থা?
তো তু সোচতা হ্যায় সিলিন্ডার লাকে তু হিরো বন জায়েগা?দেখতা হু তুঝে– ‘৷

২০১৭ সালের ১০ আগষ্টের পর এই চারটে বাক্য সত্যিই এই তরুণ চিকিৎসকের জীবন বদলে দিয়েছে ৷ গোরক্ষপুর বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংক্ষেপে বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুধুমাত্র প্রাপ্য বকেয়া না মেটানোর কারণে তৈরি হওয়া অক্সিজেন সংকটে ৫৩ জন শিশুর মৃত্যু হয় ৷ আর তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিষ নজরে পড়েন তরুণ এই শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ৷ কখনও কর্তব্যে গাফিলতির মিথ্যা অভিযোগ, কখনও নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে নেমে দেশের সুরক্ষা নষ্ট করার মিথ্যা মামলায় তাঁকে জড়ানো হয় ৷ কিন্তু তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে ‘নিষ্কলুষ’ তকমা আদায় করে স্বমহিমায় তাঁর প্রতিবাদী সত্ত্বা জিইয়ে রাখেন ৷ এমন কি সুপ্রিমকোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা ধোপে না টিকলেও উত্তর প্রদেশ সরকার অভিযোগ এনে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করে ৷

নিজস্ব চিত্র

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন( সিএএ)- র বিরুদ্ধে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্তব্যের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয় ৷ জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে ৷ অবশেষে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে ২০২০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মথুরা জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান এই তরুণ চিকিৎসক ৷

এদিন ডাঃ খান জানান, তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া এবং সংবাদ মাধ্যমে বহু আলোচিত ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনী জানানোর জন্যই
‘দ্যা গোরক্ষপুর হসপিটাল ট্র্যাজেডি‘ বই টি রচনা করেন ৷ প্রেস কনফারেন্সে তিনি তাঁর জীবনে ঘটে চলা নানা মুহূর্ত গুলো নিজের বই থেকে পাঠ করে শোনান ৷ সর্বোপরি এই মুহূর্তে তিনি চাকরি ফিরে পাওয়ার লড়াই চালানোর পাশাপাশি মৃত শিশুদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ সহ ন্যায্য বিচারও যে চান সেটাও উল্লেখ করেন ৷ তাছাড়াও জানা যায় যে সমগ্র ভারতবর্ষে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য ‘মিশন অফ স্মাইল’ প্রতিষ্ঠা করা এখন তাঁর একমাত্র স্বপ্ন ৷ আজ কলকাতায় এসে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানান যে, তিনি যদি জমি দেন তাহলে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তাঁর স্বপ্নের সংস্থার পথ চলা শুরু করতে পারবেন ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.