লেটেস্ট

থাইল্যান্ড থেকে কলকাতা ‘মিল্কশেক মার্ডার’-এর কাহিনী আসছে ওটিটিতে

এনএফবি, বিনোদন ডেস্কঃ

বিদেশ বিভুইয়ে রচিত প্লটে কলকাতার খুনের ঘটনার রহস্য। বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত বইয়ের গল্পকারই টার্গেট। ‘পিলকুঞ্জ’ সিরিজের বিপুল সাফল্যের পর অর্নব রিঙ্গো ব্যানার্জী পরিচালিত নতুন ওয়েব সিরিজ আসতে চলেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। এই সিরিজের নতুনত্ব দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গল্পের প্রেক্ষাপটের দাবিতে থাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় শ্যুট হয়েছে।

ঐন্দ্রিলা ব্যানার্জী প্রযোজিত ‘মিল্কশেক মার্ডার’ সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নীল ভট্টাচার্য, তৃনা সাহা, সৌরভ দাস জয়ী দেব রায়। এই সিরিজের মধ্যে দিয়েই নীলের ওয়েবে অভিনয়ের যাত্রা শুরু। অনান্য চরিত্রে দেখা যাবে অলোক সান্যাল, তপস্যা দাসগুপ্ত, জয়ন্ত মন্ডল, রানা মুখার্জী, অগ্নিভ জুন ব্যানার্জী, অঙ্কিতা রায়, চয়ন দে, সহেলি মন্ডলকে।

জানা গেছে, সাহিত্য জগতের আলো আঁধারী নিয়ে এগিয়েছে গল্পের প্লট। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থার প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে কাহিনীটি। শুরুতেই দেখা যায় একজন সুপুরুষ ব্যক্তিকে। ব্যর্থ লেখক তিনি। থাইল্যান্ডের পাটায়াতে থাকেন। বহুবার চেষ্টা করেছেন বড় প্রকাশককে দিয়ে বই ছাপানোর। প্রতিবারই তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।বিরক্ত, হতাশাগ্রস্ত লেখক চলে যান ফিফি দ্বীপে, কিছুটা সবার থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখার জন্যে।

হঠাৎ সেই সমুদ্রতটে তার সঙ্গে এক বিচিত্র ব্যক্তির দেখা হয়ে যায়। ভদ্রলোক বাঙালী, খানিকটা পাগলাটেও। প্রবাসে দুই বাঙালীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লাগে না। কথায় কথায় জানতে পারেন লেখক – এই পাগলাটে লোকটির প্রথম লেখা বইটি এক নামজাদা প্রকাশনা শুধু ছাপছে নয়, একটা বড় অঙ্ক দিয়ে ছাপছে।

সেই ব্যক্তি দাবি করেন, যে তার সেই উপন্যাসের জন্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি প্রকাশনা সংস্থার সাথে তার চুক্তি হয়েছে এবং তার হাতে ধরা সেই পাণ্ডুলিপি তিনি এখনও জমা দেন নি। গল্পের প্রেক্ষাপট এইখান থেকেই মোড় নেয়। কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে।

পরের দিন দুজনে সমুদ্রের ধারে বেড়াতে যায় একসঙ্গে, সেখানে লেখককে পান্ডুলিপিটি পড়তে দিয়ে ওই পাগলাটে ভদ্রলোক সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। আর সেখান থেকেই তিনি সমুদ্রে নিখোঁজ হয়ে যান। ব্যর্থ লেখকের হাতে পান্ডুলিপি, নিরিবিলি নিঝুম সমুদ্র সৈকত, আশেপাশে নেই কোনো প্রত্যক্ষদর্শী, মূল গ্রন্থের লেখক নিঁখোজ, মনের মধ্যে বিখ্যাত হবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন।
উলাটপুরানের ঘটনাচক্রে ব্যর্থ লেখকের দখলে সার্থক ব্যক্তির পাণ্ডুলিপি। যার আসল মালিক ফিফির প্রবাল সমুদ্রতলে তলিয়ে গেছে! সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি। কি করবেন তিনি?
পরবর্তীকালে দেখা যায় এই ব্যর্থ লেখক মৃত ব্যক্তির পরিচিতি ও পান্ডুলিপি দুটোই আত্মসাৎ করেন অবলীলাক্রমে। অনায়াসে তার সমকালীন শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ বিক্রিত লেখক হয়ে ওঠেন।
গল্পটি অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রের স্তরগুলি পরতে পরতে উন্মোচিত হয়। দর্শক উপভোগ করবে ফিফি এবং থাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ, অপূর্ব সুন্দর বৈচিত্র্যের মাঝে, প্রেম, প্রতারণার, রোমহর্ষক কাহিনীর বিস্তার।

সাফল্যের নতুন শিখরে উত্তীর্ণ হলেও লেখক মুখোমুখি হন নতুন এক ঘটনার। আইনের চোখে বহুল প্রচারিত বইটি দাগী খুনীর জার্নাল হিসাবে চিহ্নিত হয়। যা অতীতের আততায়ীর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। কলকাতায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন খুন- যার বিস্তারিত ঘটনাবলী শুধুমাত্র খুনি নিজেই জানে। ফাঁদ পাতা হয়। জুলাইয়ে ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং হবে সিরিজটি।

সিরিজের অভিনয় প্রসঙ্গে অভিনেতা নীল ভট্টাচার্য বলেন, একজন অভিনেতা হিসেবে ছোট পর্দায় বেশ কয়েক বছর কাটানোর পর ওয়েবে এটাই আমার প্রথম পদার্পণ। আমি আমাদের পরিচালক অর্ণব রিঙ্গো ব্যানার্জি এবং ক্লিকের কাছে কৃতজ্ঞ যে ওনারা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং আমাকে এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে তুলে ধরার আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। অন্যদিকে অভিনেতা সৌরভ বলেন, ফিচার ফিল্মের শ্যুটিং বিদেশে হয়, সেক্ষেত্রে এটি আমার প্রথম বিদেশে গিয়ে শ্যুট নয়, কিন্তু ওয়েব সিরিজের ক্ষেত্রে এটি আমার প্রথম বিদেশে গিয়ে শ্যুট। পাশাপাশি তিনি বলেন, গল্পে এমন অবিশ্বাস্য মোড় আছে। আমি মনে করি এটি আমার আজ অবধি করা সেরা পারফরম্যান্সগুলির মধ্যে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পিলকুঞ্জে চিকিৎসকের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় বিশেষ স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছিল। এই সিরিজে তাঁর অভিনয় প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তৃণা সাহা বলেন, ওয়েব সিরিজে আমার স্বামী নীলের সঙ্গে আমার প্রথম সহ-অভিনেতার কাজ এবং তারপরে সৌরভের মতো খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে অভিনয়। এবং এই ধরণের চরিত্রায়ণও প্রথমবার যা বিশেষভাবে আমার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

পরিচালক অর্ণব রিঙ্গো ব্যানার্জী বলেন, মিল্কশেক মার্ডারস একটি নতুন যুগের দ্রুত গতি সম্পন্ন, ব্যতিক্রমী থ্রিলার। যার চরিত্রগুলি অদৃষ্টে লেখা ভাগ্যের আর হাতের মুঠোয় আকস্মিক সাফল্যের খেলায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। তারা শেষমেশে নিরাশা আর নিদারুণ যন্ত্রণার জালে জড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে তিনি বলেন,প্রতিবারই সাধ আর সাধ্যের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে চলেছি। আশা করবো দর্শকবৃন্দ আমাদের পাশে এভাবেই থেকে আমাদের স্বপ্নের উড়ানকে সফল করবেন।

ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ডিরেক্টর নীরাজ তাঁতিয়া বলেন, আমরা এই সিরিজে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। প্রেম, প্রতারণা, বিভ্রাট ও দ্বিধার আবেগে বিস্তৃত ক্যানভাসকে চিত্রিত করে এই সিরিজ।

সিরিজটিতে সাউন্ড ডিজাইন করেছেন তীর্থঙ্কর মজুমদার, ভিএফএক্স করেছে রজত দলুই, সহযোগী পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রতীক রায়, সহকারী পরিচালক ছিলেন মণিশঙ্কর দেবনাথ, অগ্নিভ ব্যানার্জী। আর্ট ডিরেক্টর ছিলেন সুভারতী বিশ্বাস, পোশাক পরিকল্পনা করেছেন নন্দিনী সেনগুপ্ত এবং মেকআপ করেছেন রাজদীপ।

সিরিজটির প্রযোজক ঐন্দ্রিলা ব্যানার্জী জানান, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম একটি দারুণ রোমহর্ষক ওয়েব সিরিজ উপহার দেবো। আমাদের শেষ সিরিজ ‘পিলকুঞ্জ’-এর মুক্তির পর আমি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যে পরেরটি আরও বড় মাত্রায় করবো।