বিনোদনলেটেস্ট

[:en]ওয়েবে ‘বরুণ বিশ্বাসের গ্রাম’, অম্লান মজুমদারের কাহিনী- অভিনয়ে রেজওয়ান বাসবদত্তা[:]

[:en]

এনএফবি, বিনোদন ডেস্কঃ

এবার ওয়েবসিরিজে আসছে বরুণ বিশ্বাসের গ্রাম। ইন্টারনেটের পর্দায় প্রথমবার দেখা যাবে বাসবদত্তা চ্যাটার্জী এবং রেজওয়ান রব্বানি শেখকে। স্কাইপ্যান কমিউনিকেশন্স প্রযোজিত সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত রুদ্ধশ্বাস এই সিরিজের নাম “শক্তিরুপেণ”। পরিচালক সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়। কাহিনী চিত্রনাট্য সংলাপ লিখেছেন অম্লান মজুমদার। এরপূর্বে অম্লানের লেখা ভাগাড় বিপুল ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সিরিজটির সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন রাজদীপ ঘোষ।

জানা গেছে, কলকাতা থেকে তিন ঘন্টা দূরত্বের ছোট্ট গ্রাম সুটিয়া। লোকে তাকে আজ বলে “বরুণ বিশ্বাসের গ্রাম”। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ এই তিন বছরে এই গ্রামে নেমে এসেছিল এক অন্ধকার রাজ। ঘটেছিল একের পর এক নরকীয় ঘটনা। কমপক্ষে ২০০টি ধর্ষণের রেকর্ড আছে এই গ্রামে। শুধু তাই নয়, ৪০ দিনে ৭৯টা ধর্ষণের ভয়ংকর স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট গ্রাম সুটিয়া। এই কাহিনীর কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র দময়ন্তী ও রিষান। রিষানের একটা ছোট্ট বুটিক আছে বৈচি গ্রামে। তারই ডিজাইনার দময়ন্তী। এই বুটিকের যাবতীয় তাঁতের কাপড় আসে ফুলিয়ার অনাদিবাবুর তাঁতঘর থেকে। ঘটনার দিন সেখান থেকেই ফিরছিল তারা দু’জনে। চারদিক শুনশান, অন্ধকার আর তার সাথে বৃষ্টিতে ছুটে চলছিল তাদের গাড়ি।

হঠাৎই বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদের চিৎকার। অন্ধকারে তাদের গাড়ির সামনে এসে পড়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় একটি মেয়ে। তাকে বাঁচাতে নামতে চায় দময়ন্তী আর ঠিক তখনই তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় তিলক দাস ও তার দুই সঙ্গী সৈদুল ও কালু। নিজের ও দময়ন্তীর প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি ছুটিয়ে বেরিয়ে যায় রিষান। পরদিন তারা জানতে পারে মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রতিবাদে গর্জে ওঠে দময়ন্তী। রিষান সবকিছু চেপে যেতে বলে।

কিন্তু একটা মেয়ের এই অকাল পরিণতি কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারেনা দময়ন্তী। শুরু হয় তার লড়াই, লোকাল থানার ওসি বড়ুয়া আজ্ঞাত পরিচয় নামে এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন। সাত দিন কেটেও যায়, তার পরে আসে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। এদিকে সাত দিন পর মুম্বাইয়ের একটা কনসাইনমেন্টের কাজ সেরে ফেরার পথে পেট্রোল পাম্পে সেই তিলক দাসকে দেখে চমকে ওঠে দময়ন্তী। তার একটা ছবি তুলে সরাসরি পৌঁছে যায় লোকাল থানায়। তিলক দাসের ছবি দেখে চমকে ওঠেন ওসি।

এদিকে এই অঞ্চলেরই কালনা কোর্টের এক ধ্বজভঙ্গ উকিল হালদারবাবু। তিনি শুধু একবার এজলাসটা কাঁপাতে চায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার জীবনে সেরকম কোনো কেস্ জোটে না। ঘটনাক্রমে এই কেসের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। মামলা শুরু হয় আদালতে। দময়ন্তী সেই রাতের ঘটনা কোর্টকে জানালেও, সবকিছু অস্বীকার করে রিষান। আদালতকে সে জানায় এরকম কোন ঘটনাই তার চোখের সামনে ঘটেনি। পাশাপাশি এও জানায়, দময়ন্তীর তুমুল বৃষ্টি দেখে সাফোকেশন হচ্ছিলো, অ্যাংজাইটি থেকে সে এসব কথা বলছে। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে তার খেলায় সরগরম হয়ে ওঠে কোর্ট চত্বর। অন্যদিকে ভিকটিম নয়না মন্ডলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন হালদার বাবু। এই লড়াইয়ের পরিণতি কী তা জানতে হলে দেখতে হবে ওয়েব সিরিজটি। ফেব্রুয়ারি মাসেই ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিরিজটির স্ট্রিমিং শুরু হবে।

সিরিজটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পরিচালক সুরজিৎ মুখার্জী বলেন, “অম্লানের লেখা এই গল্পটি পরিচালনা করতে গিয়ে কোথায় যেন নিজের অজান্তেই ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ ইনভল্ভড হয়ে পড়েছি। গল্পটির প্রেক্ষাপট অম্লান যখন আমাকে শোনায় তখনি আমার বুকের ভেতরটা হা হাকার করে উঠে। রাগ এবং দুঃখ প্রকাশে আমাদের মত পরিচালকদের একটাই মাধ্যম।“ “শক্তিরূপেণ ওয়েব সিরিজে আমি যে চরিত্রটি করেছি সেটি একটি প্রতিবাদী নারী চরিত্র। এর আগে বহু প্রতিবাদী নারী চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু দময়ন্তী চ্যাটার্জি আমাকে নতুন ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এটি আমার করা অন্যতম একটি পছন্দের চরিত্র হয়ে থেকে যাবে।“ বলে জানান অভিনেত্রী বাসবদত্তা।

অভিনেতা রেজওয়ান বলেন, “আমি সবসময় চরিত্র চয়ন করি এটা ভেবে যে ‘কোনো ভালো গল্পো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন বা দর্শক আমায় কিভাবে কোন চরিত্রে দেখতে চাইছেন তার ওপর ভিত্তি করে’। সেখানে একজন অভিনেতা হিসেবে আমারও কোথাও দায়িত্ব থাকে এই ধরনের বার্তা সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এই গল্পটা নির্বাচন করা অবশ্যই সমাজের জন্য।“

অভিনেতা তথা কাহিনীকার অম্লান মজুমদার জানান,’কলম নাকি তরোয়ালের থেকেও ধারালো’-তাই তাকেই সঙ্গী করলাম ধর্ষণের বিরুদ্ধে। এক নারীর গর্জে ওঠার কাহিনী এই “শক্তি রূপেণ”। “আমরা আমাদের চ্যানেলে, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে নারীর সম্মান ও সুরক্ষার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মর্যাদা দিয়ে থাকি। এবং বলা বাহুল্য, আমরা দায়িত্ব সহকারে এরকম কাহিনী নির্মাণ করা আমাদের কর্তব্য বলেই মনে করি l এই প্রথা মেনেই প্রখ্যাত অভিনেত্রী বাসবদত্তা চ্যাটার্জি এবং রেজওয়ানের মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেতাকে নিয়ে এই গল্পের বুনোট তৈরি হয়েছে।“ প্রতিক্রিয়ায় জানান ক্লিকের ডিরেক্টর নীরজ তাঁতিয়া।


সিরিজটিতে অনান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অম্লান মজুমদার, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, স্বর্ণকমল ,অঙ্কুর রায়, রানা মুখার্জি, সৌমেন দত্ত। সিনেমাটোগ্রাফারের দায়িত্ব সামলেছেন সৌরভ ব্যানার্জী। শিল্প নির্দেশনা: সঞ্জীব চৌধুরী, ডিজাইনার- অদ্রিজা বিশ্বাস, গণমাধ্যম প্রচার ও মার্কেটিং: রানা বসু ঠাকুর।

[:]