জুলাই 18, 2024
Latest:
স্থানীয়

আমি ভালো আছি’,লেখা মেসেজ নিয়েই প্রশাসনের দুয়ারে মেয়ের মা

এনএফবি,পশ্চিম মেদিনীপুরঃ

মেয়ে ঘরে ফেরেনি,তবে মেয়ের ফোন থেকে এসেছে মেসেজ । আর সেই ম্যাসেজ হাতেই প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মেয়ের মা ও পরিবার।

চলতি মাসের ৩ তারিখে ডেবরা কলেজে পড়তে যাওয়ার নাম করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বছর একুশের অর্চনা ভঞ্জ। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি অর্চনা। নানান জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর হদিশ না পেয়ে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানায়। এরপর তারা দ্বারস্থ হয় খড়্গপুর লোকাল থানার। পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে খড়্গপুর লোকাল থানাতে। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত হদিশ মেলেনি গৃহবধূর। তবে এরই মধ্যে ৪ তারিখ বিকেলে অর্চনার মায়ের মোবাইলে আসে এক মেসেজ । মেয়ের নম্বর থেকে আসা ওই মেসেজ লেখা রয়েছে “আমি বাইরে চলে এসেছি, যেখানেই আছি ভালো আছি, যার সঙ্গে ভালো থাকতে পারব তার কাছে আছি।”
এই মোবাইলের মেসেজ দুশ্চিন্তা বেড়েছে অর্চনার বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে। সেই মেসেজ নিয়েই তিন দিন ধরে কখনো খড়্গপুর লোকাল থানায় কখনও সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হচ্ছে তারা। দাবি, কোথায় আছে তাঁদের মেয়ে, হদিশ দিক পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত গৃহবধূ নিখোঁজের রহস্যের কিনারা করতে পারেনি প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, পাঁচ মাস আগেই খড়্গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত চক গোবিন্দপুরে তাপস সুর নামে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয় অর্চনার। পার্শ্ববর্তী এলাকা কাঁয়তা গ্রামে বাপেরবাড়ি হওয়ায়,বাপেরবাড়িতে হরদম যাতায়াত ছিল অর্চনার। ডেবরা কলেজের কলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অর্চনা বিয়ের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলে, মেলে শ্বশুরবাড়ির সম্মতি। পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী তাপসের সাথে সুখেই ঘর করছিল অর্চনা। পরিবারের দাবি, ছিলনা কোনো দাম্পত্য কলহ। তবে কি অন্যের প্রলোভনে পা দিল মেয়ে? এই প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে নিখোঁজ গৃহবধূর বাবা শঙ্কর ভঞ্জের মাথায়। নিখোঁজ গৃহবধূর বাপেরবাড়ি-শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা এখন হন্যে হয়ে খোঁজ চালাচ্ছে তাঁদের বাড়ির মেয়ের। পরিচিতদের প্রত্যেকের হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হয়েছে অর্চনার নিখোঁজ বার্তা। যদি কেউ মেয়ের হদিশ পেতে পারে! এই ভাবনা থেকেই সমাজমাধ্যমে মেয়ের ছবি পাঠানো হয়েছে সর্বত্র, জানাচ্ছেন নিখোঁজ গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা। গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার পেছনে রয়েছে কি ‘পরকীয়া’! খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাড়ির মেয়ে বাড়ি কবে ফিরবে! আদৌও ফিরবে কি! প্রশ্ন পরিবারের সদস্যদের।