জেলা

বামপন্থীরা আদর্শচ্যুত,তাই বহরমপুরে নাড়ুগোপালের সমর্থনে প্রচার বামনেতার ছেলের

এনএফবি, মুর্শিদাবাদঃ

দল আদর্শচ্যুত হয়েছে, কিন্তু মানবসেবার আদর্শ থেকে ‘চ্যুত’ হতে রাজি নন সিপিআই (এম)রাজ্য কমিটির অধুনা প্রয়াত এই নেতার ছেলে। আর তাই রাজ্য জুড়ে পুর নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই বহরমপুর শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন দেবাশিস ঘোষ।
আগামী ২১ ডিসেম্বর কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেকোনও সময় ঘোষণা করতে পারে রাজ্যের শতাধিক পুরসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে কলকাতা হাইকোর্টে জানানো হয়েছে তারা কয়েকটি পর্যায়ে এবং কয়েক মাস জুড়ে রাজ্যের সমস্ত পুরসভাগুলোতে নির্বাচন করতে চায়।
তবে পুরনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি ইতিমধ্যে তুঙ্গে উঠেছে। তাদের মধ্যে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই শাসকদলের তরফে বিভিন্ন পুর এলাকাতে দেওয়াল দখল ও লিখনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
এবারের কলকাতা পুরনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়াত বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামীকে প্রার্থী করে বামেদের বড় ধাক্কা দিয়েছে। এরই মাঝে বহরমপুর শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দেওয়াল লিখন ও দখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গেল সিপিআই (এম)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য এবং মুর্শিদাবাদ জেলা কিষান সভার প্রাক্তন সম্পাদক তিমির ঘোষের ছোট ছেলে দেবাশিসকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মাত্র একবছর আগে মৃত্যু হয়েছে জেলা বামফ্রন্টের দাপুটে নেতা তিমিরবাবুর।
বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিআই (এম)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিমিরবাবুর মৃত্যুর পর থেকে বাম নেতৃত্ব তার পরিবারের খবর রাখেনি। এমনকি তাঁর স্মরণসভাতেও দল উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করেনি। সেই অভিমান এবং দলের আদর্শচ্যুতির কারণে তিমিরবাবুর ছোট ছেলে দেবাশিস ঘোষ পুরনির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগেই তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরেই দেবাশিসবাবুকে বহরমপুর পুরসভার ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে দেওয়াল দখল ও লিখতে দেখা যাচ্ছে।
দেবাশিসবাবু বলেন,”একসময় আমি সিপিআই(এম)-এর এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলাম এবং আমার বাবা ছিলেন রাজ্য কমিটির নেতা। কিন্তু যে আদর্শ নিয়ে বামপন্থী রাজনীতি চলত বর্তমান নেতৃত্ব তার থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। সাধারণ মানুষের পাশে থাকার যে আদর্শ বাম নেতাদের ছিল তা এখন আর আমরা দেখতে পাই না। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এখন কাজ করছে একমাত্র মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস।”
তিনি আরও বলেন,”বহরমপুর শহরের উন্নয়নের যে যজ্ঞ তৃণমূল নেতা নাড়ুগোপাল মুখার্জি শুরু করেছে তাতে সামিল হতে বিবেকের তাড়নাতেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দেওয়াল লিখন এবং প্রচার শুরু করেছি। আমি নিশ্চিত আগামী পুর নির্বাচনে বহরমপুর শহরে বিরোধী রাজনৈতিক দল বলে কিছু থাকবে না। তৃণমূল কংগ্রেস শহরের সবকটি ওয়ার্ডে জিতবে।”
অন্যদিকে বহরমপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন,”তিমির ঘোষ একসময় জেলাতে বামপন্থীদের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁর ছেলে যখন বামপন্থা ছেড়ে চলে আসে তার অর্থ দাঁড়ায় বামপন্থীরা আর মানুষের জন্য কাজ করছে না। তৃণমূল কংগ্রেসই এখন একমাত্র দল যারা সারা বছর মানুষের পাশে থাকে।”
তিনি বলেন, “রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেকোনও সময় বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে। তার প্রস্তুতি হিসেবে আমরা ইতিমধ্যেই পুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেওয়াল দখল ও লেখা শুরু করেছি। দেবাশিসবাবু আমাদের হয়ে আপাতত ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ করছেন। দরকার হলে তাকে আমরা অন্য ওয়ার্ডেও প্রচারের কাজে ব্যবহার করব।”