ম্যাচ ড্রয়ে খুশি নন হাবাস

অঞ্জন চ্যাটার্জী, এনএফবিঃ

বৃহস্পতিবারের ড্রয়ে যে মোটেই খুশি নন এটিকে মোহনবাগানের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস, তা ম্যাচের পরে তাঁর কথা শুনেই বোঝা গেল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এ রকম চলতে থাকলে তাদের পক্ষে প্লে অফে ওঠা বেশ কঠিন হয়ে উঠবে।

বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ৩-৩-এ ম্যাচ অমীমাংসিত রেখে মাঠ ছাড়েন হাবাসের দলের ফুটবলাররা। দু-দু’বার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারেনি তারা। এ দিন গতিময় ফুটবলের প্রথমার্ধে ২৫ মিনিটের মধ্যে চারটি গোল হয় ও দ্বিতীয়ার্ধে ১৪ মিনিটের মধ্যে দু’টি গোল করে দুই দল। হাফ ডজন গোলের মধ্যে পাঁচটিই আসে সেট পিস মুভ থেকে। এই ড্রয়ের ফলে যেমন টানা চার ম্যাচে জয়হীন রইল এটিকে মোহনবাগান, তেমনই টানা ছ’ম্যাচে জয়ের মুখ দেখতে পেল না বেঙ্গালুরু এফসি-ও। লিগ টেবলে তাদের অবস্থান আপাতত যথাক্রমে ছয় ও নয় নম্বরে। ম্যাচের পরে সাংবাদিক বৈঠকে কী বললেন সবুজ-মেরুন কোচ, জেনে নেওয়া যাক।

আপনার কি মনে হয় কোনও দলেরই আজ হারা উচিত ছিল না?

উত্তরঃ ড্র-টা সঠিক ফলই হয়েছে। তবে যে কোনও দলই আজ জিততে পারত। ভয়ঙ্কর একটা ম্যাচ হয়েছে। তাই এটা ঠিক ফলই হয়েছে।

বেঙ্গালুরুর প্রথম এগারোয় সুনীল ছেত্রীর নাম না দেখে আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

উত্তরঃ সুনীল ছেত্রী সম্পর্কে সব সময়ই একই কথা বলব। ভারতীয় ফুটবলে ও এক দৃষ্টান্ত। তরুণ ফুটবলারদের কাছে আদর্শ। আমাদের ম্যাচটা তো বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ছিল, সুনীলের বিরুদ্ধে নয়।

১২ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ২ পয়েন্ট অর্জন করতে পারলেন। ব্যাপারটাকে কী ভাবে দেখছেন?

উত্তরঃ ব্যাপারটা মোটেই ভাল হচ্ছে না। ক্রমশ নিজেদের সুনাম হারিয়ে ফেলছি আমরা। প্লে অফে খেলতে গেলে এই সুনাম পুণরুদ্ধার করতেই হবে। দলের ফুটবলারদের এটা বুঝতে হবে। আমরা যদি এই জায়গা থেকে বেরোতে না পারি, তা হলে আমাদের প্লে অফে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে না।

গত মরশুমে আপনারা সারা লিগপর্বে ১৫ গোল খেয়েছিলেন। এ বারে মাত্র ছ’টি ম্যাচে ১৩ গোল হজম করা হয়ে গিয়েছে। এর কী ব্যাখ্যা দেবেন?

উত্তরঃ প্রত্যেক মরশুমে তো আর একই রকম হয় না। এই মরশুমে একাধিক খেলোয়াড় নতুন এসেছে। তাদের নিয়ে আমরা নতুন পদ্ধতি, পরিকল্পনায় খেলছি। এ বার তাই অনেক কিছুই আলাদা। গত মরসুমের কথা ভুলে এই মরশুমে আমাদের উন্নতি করতে হবে।

সবুজ-মেরুন শিবিরের তারকা ফরোয়ার্ড রয় কৃষ্ণা মনে করেন দল হিসেবে তাঁরা এই ম্যাচে মোটেই ভাল খেলতে পারেননি। ম্যাচের শেষে তিনি বলেন, “জানি না, ভুল হচ্ছে কোথাও। আমি সামনের দিকে বল পাচ্ছি না। তাই মাঝমাঠে নেমে আসতে হচ্ছে আমাকে। তা ছাড়া, সব দলের ডিফেন্ডাররা এখন আমার খেলা বুঝে ফেলেছে, তাই ওরা আমাকে আটকানোর কাজটা এখন ভাল ভাবেই করছে। দল হিসেবে আমাদের আরও ভাল করতে হবে। আমাদের দল ভাল। কিন্তু আজ আমরা যথেষ্ট ভাল খেলতে পারিনি। ভাগ্য ভাল যে হেরে যাইনি। তাই এক পয়েন্ট নিয়েই খুশি। তবে দল হিসেবে আজ আমরা যথেষ্ট ভাল ছিলাম না”।

Leave a Reply

Your email address will not be published.