রাজ্য

ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন হিমঘর মালিকদের

এনএফবি, কলকাতাঃ

ক্ষতির মুখে হিমঘর মালিকরা। ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে সোমবার কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিলিত হন তারা। এদিনের এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হিমঘর মালিকদের সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল কুমার রানা, শুভজিৎ সাহা-সহ অনান্য পদাধিকারীবৃন্দ। সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাতে এদিকে যেমন তারা বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে অন্যদিকে হিমঘরগুলির আধুনিকীকরণ ব্যহত হচ্ছে। যার ফলে ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে পরিষেবা প্রদানকারী এবং পরিষেবা গ্রহণকারী উভয়পক্ষই।

প্রসঙ্গত, হিমঘরগুলি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণের জন্য ভাড়ার আয় দিয়েই পরিচালিত হয়। সাধারণত সরকার নির্ধারিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার কোল্ড স্টোরেজগুলির ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণ করে। বিদ্যুতের খরচ, অ্যামোনিয়া, অফিস রক্ষনাবেক্ষণ, কৃষিপণ্য লোডিং ও আনলোড করার জন্য নিয়োজিত সব ধরনের শ্রমের জন্য কর্মীদের বেতন, পারিশ্রমিক ইত্যাদি ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। সংস্থার দাবি, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ভাড়া সর্বদা বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশকৃত পরিমাণের চেয়ে কম হয়। বছরের পর বছর ধরে প্রস্তাবিত ভাড়া এবং অনুমোদিত ভাড়ার মধ্যে ব্যবধান অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসা ক্রমে রুগ্নশিল্পে পরিণত হওয়ার মুখে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে যে, ২০২১ সালের পর হিমঘরগুলির ভাড়া সংশোধিত করে নি সরকার। কিন্তু আনুষঙ্গিক খরচ উর্ধবমুখী।

পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রী সুনীল কুমার রানা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটা দুঃখের বিষয় যে অন্যান্য রাজ্যে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া প্রতি কুইন্টাল ২৩০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে রাখে। কিন্তু আমরা সরকার কর্তৃক বাধ্য হচ্ছি আমাদের ইউনিটগুলি প্রতি কুইন্টাল ১৬৮ থেকে ১৭২ টাকায় পরিচালনা করার জন্য। যে কারণে আমরা প্রতি কুইন্টালে ৩১.৩০ টাকা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেছি এবং গত দুই বছর ধরে এই ক্ষতি অব্যাহত। আমাদের আন্তরিক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমরা ইউনিটগুলিকে আধুনিকীকরণ করতে পারিনি। ফলে কৃষক ও ভোক্তারা সংরক্ষণের আধুনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে অনেক হিমঘর মালিক ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় হিমঘর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোল্ড স্টোরেজ শিল্পের আর্থিক ক্ষতি যথাসময়ে সামলানো না গেলে অদূর ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করতে চাই যে আগামী মরশুমে বর্তমান ভাড়া কাঠামোতে কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনার বিষয়ে নিশ্চিত নই এবং সেক্ষেত্রে আমাদের অক্ষমতা ক্ষমা করতে হবে।“