টাঙ্গা চালকের আর্তি,অবলা জীব গুলোকে বাঁচিয়ে রাখি কী করে

মনোদীপ ব্যানার্জী, মুর্শিদাবাদঃ

জেলার নাম মুর্শিদাবাদ। পরিচিত নাম নবাবের জেলা, নবাব নগরী। নবাব নেই, রয়ে গিয়েছে নবাবী স্থাপত্য ও নিদর্শন। আর তা দেখতে বছরের বছর ধরে পর্যটকদের আনাগোনা চলে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ভিড় জমে হাজারদুয়ারি, মতিঝিল, ইমামবাড়া দেখতে। এই পর্যটকদের উপর নির্ভর করেই নিজেদের রুজি রুটির ব্যবস্থা করেন লালবাগ শহরের হোটেল মালিক থেকে শুরু করে টাঙ্গাচালক, গাইড এমনকি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। গত বছরের ২৫ শে ডিসেম্বর থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন যে ভিড় দেখা গিয়েছিলো। রবিবারের পর উধাও সেই ভিড়।

হু হু করে বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের জন্য, বন্ধ হয়েছে জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলি। ফলেই বিপাকে পড়েছেন লালবাগ পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত সকলেই। হাজারদুয়ারি সংলগ্ন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “২০২১ র শেষ থেকে কিছুটা আশার আলো দেখেছিলাম, লোকও হচ্ছিলো, এখন সব বন্ধ। মালও তুলেছিলাম, ধার করে, তবে হাজারদুয়ারি বন্ধ হওয়ায় আমাদেরও ব্যবসা লাটে উঠেছে।” দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে পর্যটকদের পা পড়ছিল পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বিধির গেরোয় এখন পর্যটক শূন্য নবাব নগরী। লালবাগের হোটেল ব্যবসায়ী তীর্থঙ্কর সরকার বলেন, “বহু পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন, পর্যটকদের উপর নির্ভর করেই আমাদের চলে। সরকার আমাদের দিকে না তাকালে চরম সঙ্কটে পড়ে যাবো।”

বন্ধ হোটেল

দুদিন আগেই পর্যটকদের আগমনে যে শহর ছিল টইটম্বুর, এখন সেই শহরে শুধুই শূন্যতা। দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে আগত বেশ কিছু তরুণ – তরুণী নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতেই। যাবার আগে বললেন, “আশা করে এসেছিলাম, মুর্শিদাবাদ ঘুরবো, সবই তো বন্ধ! ফিরে যাচ্ছি।” বুকচাপা কষ্টে ভাঙা গলায় এক টাঙ্গাচালকের আর্তি, “নিজের বাড়ির লোক একদিন না খেয়েও চুপ থাকবে, কিন্তু এই অবলা জীব গুলোকে বাঁচিয়ে রাখি কী করে বলুন?” ৪৮ টি ঘোড়া অভুক্ত অবস্থায় মারা গিয়েছে, মৃতপ্রায় অবস্থা আরও কয়েকটি ঘোড়া, টাঙ্গা না চললে এভাবেই মারা যাবে ঘোড়া গুলি। মত একাংশ টাঙ্গা চালকদের। টাঙ্গা ইউনিয়নের সম্পাদক মনু সেখকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের মোট ২০০ জন টাঙ্গা চালক অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। আগামীতে কী করবো, তা বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

গঙ্গা সাগর মেলা স্থগিতের কোনো নির্দেশ সরকার দেয়নি, খোলা রয়েছে অনেক ধর্মীয় তীর্থস্থানও তবুও কেন বন্ধ জেলার পর্যটনকেন্দ্র গুলি, প্রশ্ন অনেকেরই। সরকার ও প্রশাসনের উপর ভরসা করেই আগামীতে সুদিন ফিরবে বলে আশা করছেন শহর লালবাগের টোটো চালক, হকাররাও। শীতের কুয়াশা যত তাড়াতাড়ি কেটে রোদ ঝলমলে আকাশ দেখছে এই জেলা, তেমন ভাবেই পর্যটনের আকাশেও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ কেটে যাবে। এই আশায় বুক বাঁধছে নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.