অস্তিত্ব সঙ্কটে মুর্শিদাবাদের টাঙ্গা চালকরা

মনোদীপ ব্যানার্জী, মুর্শিদাবাদঃ

রানীর যত্নের ত্রুটি রাখেনা তার শাহজাদা আইনাল। নিজের হাতেই পরিচর্যা করেন তার সংসারের রানীকে। চোদ্দ বছরের রানী আইনালের সংসারের হাল ধরেছে সাত বছর ধরে। কেল্লা লিজামতের বছর ষাটের আইনাল সেখ তার পেয়ারের রানীকে নিয়েই চালাচ্ছে তার সংসার। রানীও ছুটছে তার নিজের গতিতে।

নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদ। নবাবের জেলায় নবাবি শাসনের অবসানের পরেও সেই আমলের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে ঘোড়ায় টানা টাঙ্গা গাড়ি। এখানে ঘুরতে এসে ইতিহাস পিপাসুদের প্রথম পছন্দ ঘোড়ায় টানা টাঙ্গা গাড়ি। টাঙ্গায় চেপে পর্যটকরা নবাবি আমলের স্থাপত্য নিদর্শন দেখতে দেখতে ফিরে যান নবাবি আমলেই। তবে সময়ের বিবর্তনে অস্তিত্ব সঙ্কটে টাঙ্গা চালকরা। অতিমারীর প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল হাজারদুয়ারি সহ জেলার অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলিও। ফলে পর্যটক শূন্য ছিল এই জেলা। তাই চরম দুরবস্থায় দিন কাটাতে হয় টাঙ্গা চালকদের। সম্প্রতি চালু হয়েছে ট্রেন চলাচল, খোলা হয়েছে হাজারদুয়ারি-সহ জেলার অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলিও। আর এতেই সুদিন ফেরার আশা দেখছেন আইনালের মতো অসংখ্য টাঙ্গা চালক।

একটি ঘোড়ার দিন প্রতি খরচ ২৫০ টাকা, লকডাউনের সময়েও ধার করে নিজেদের ঘোড়ার খাবারের জোগান দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন টাঙ্গা চালকরা। টোটো চলাচল বেশি হওয়ায় অনেকেই মুখ ফিরিয়েছেন টাঙ্গা গাড়ির থেকেও। তবুও ইতিহাসের সাক্ষী হতে এখনও পর্যটকদের ভরসা টাঙ্গা গাড়ি। টাঙ্গা চালক আইনাল সেখ তার ঘোড়া রানীর পরিচর্যা করতে করতে জানান, “বছর তিরিশেক এই পেশায় আছি। বছরে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাস রোজগার, বাকি মাসে তেমন কোনো রোজগার নেই। অনেকেই পেশা বদলেছে, আমরা এখনও আছি।” তবে চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন টাঙ্গা চালকরা, বলেই মত অধিকাংশের। সরকারি সাহায্য না পেলে নবাবি তালুক থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে ঘোড়ার খুরের চেনা শব্দ, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বহু টাঙ্গা চালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.