রাজ্যলেটেস্ট

[:en]নির্বাচন মিটতেই দলের নির্দল নীতি বদল তৃনমূলের ![:]

[:en]

এনএফবি নিউজডেস্কঃ

নির্বাচন ঘোষণার পরে থেকেই জেলায় জেলায় টিকিট না পেয়ে গোঁজ প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছিল হু হু করে। তৃণমূলেরই লোকজন নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করেন। টিকিট না পেয়ে মুর্শিদাবাদে বিদ্রোহ করেন জেলার চার বিধায়ক। এমনকি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্দলদের হয়ে প্রচারও করতে দেখা যায়। তাই নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে এক প্রকার হুইপ জারি করেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় । বারবার বলেছিলেন যে, “নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়ানো লোকজনকে আর দলে ফেরানো হবে না” । কিন্তু একি পঞ্চায়েত নির্বাচন মিটতেই তার উল্টোটা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি এখন উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের রাজ্য় সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের গলাতেও।

নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে বারবার দায়িত্ব নিয়ে গোঁজ প্রার্থীদের দলে ফেরত না নেওয়ার কথা বলেছিলেন অভিষেক। গত ২ জুলাই সুজাপুর থেকে তাঁর বক্তব্য ছিল, “ক্যামেরাকে সাক্ষী রেখে বলছি, নির্দলদের ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না। কারণ একজন নির্দলকেও নেওয়া হবে না দলে।” এমনকি গত ১৭ জুন কালীঘাটের দলীয় মিটিং শেষে কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় ও বলেছিলেন নির্দলদের কোনোভাবেই দলে নেওয়া হবে না। কিন্তু নির্বাচন পর্ব মেটার পর থেকে অন্য় দল থেকে তো বটেই, নির্দলদেরও এক এক করে তৃণমূলে ফিরতে দেখা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কুণাল যদিও দাবি করছেন, বেছে বেছেই দলে ফেরান হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “ভোটের আগে জেলা সভাপতিদের কাছে জানিয়ে দিয়ে গিয়েছেন কিনা যে, আমরা আলাদা লড়তে চাই না। সেটা কেস টু কেস দেখে জেলা সভাপতিরা নাম সুপারিশ করবেন।”

এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ আজকে একটি টুইট করেছেন দল থেকে যাওয়া নির্দল প্রসঙ্গেঃ “অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘোষণাই নীতি। যারা ভোটের দিন পর্যন্ত দলের বিরোধিতা করেছে, দরজা বন্ধ। যাঁরা সময়াভাবে নির্দিষ্ট দিনে নাম প্রত্যাহার করতে পারেননি, কিন্তু ভোটের আগেই দলের সঙ্গে চলে এসেছিলেন, কেস ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সভাপতিরা রাজ্যের অনুমোদন নেবেন।”

আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর, জয়ী বিক্ষুব্ধ নির্দলদের নিয়ে তৃণমূলের নীতিতেও কী সেই পরিবর্তন আসতে চলেছে? এই প্রশ্ন উঠছে কারণ, পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করতে জেলায় জেলায় নবজোয়ারে ঘুরেছেন অভিষেক। সেখান থেকে, নির্দলদের নিয়ে বারংবার হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। নামখানা থেকেও স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, "তৃণমূলের জোড়াফুল চিহ্ন যাঁর কাছে থাকবে, তিনিই প্রার্থী। নির্দল হয়ে দাঁড়ালে, যতদিন তৃণমূল থাকবে, বেইমানগুলিকে আর নেওয়া হবে না।"

এখন কিন্তু নির্বাচন পর্ব মিটে গিয়ে ফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে । বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে অন্যান্য দল থেকে তৃণমূলে ফেরার হিড়িক বাড়ছে, তা দেখে প্রশ্ন উঠছে শুরু করেছে , এবার কি জয়ী নির্দলদের ফেরানোর জন্য নতুন ফর্মুলা তৈরি করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব? এ প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্য, "মনোনয়ন করে ফেলেছে, প্রত্যাহারের তারিখ পার হয়ে গিয়েছে, তার দু'দিন পর জেলা সভাপতি এবং নেতাদের বলছেন যে, আলাদা থাকতে চাই না। পার্টিতেই আছি, পার্টিতেই থাকব।" দলের হয়ে সাফাই দিয়ে কুণাল আরও বলেন, "পার্টির হয়ে খাটাখাটুনি করেছে। কিন্তু কোনও কারণে এলাকার মানুষ তাঁদের দু'একজনকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা তো আগেই এসে গিয়েছেন!"

আর আজকের কুণালের টুইটের পরেই বিতর্ক উঠছে নির্বাচন মিটতেই তৃণমূল 'নির্দল নীতি' বদলে ফেলেছে । শুধু তাই নয়, যাঁরা নির্দল হয়ে জিতলে, তাঁদের জন্য দরজা খোলা, আর যাঁর হেরেছেন তাঁদের জন্য বন্ধ, এ কেমন দ্বিচারিতা, উঠছে প্রশ্নও।

[:]